Skip to content

ওরা দুজন কি হারিয়ে যাচ্ছে…?

জুলাই 22, 2008

রাসেদ ও নিপা , ওদের পরিচয় হয়েছিল প্রায় বছর খানেক আগে নেটের কোন এক চ্যাট রুমে। ওরা একে আপরের ম্যসেন্জার আইডি নিয়ে নেয়। কয়েক মাস ভালই চ্যাট করে একে অপরের সাথে । কয়েক দিন পর রাসেদ নিপার মোবাইল নাম্বার নিয়ে নেয়। এবার শুরু হয় ওদের প্রেমালাপ। রাত দিন যখন সময় পায় কথা বলে ওরা । ওরা একে অপরের ছবি দেখে। নিপাকেও রাসেদের ভাল লাগে আর রাসেদকেও নিপার।

নিপার মিষ্টি মধুর কথায় রাসেদ যেন পাগল প্রায় তবে নিপার একটু চালাকিটা ছিল বেশ মজার। নিপা রাসেদ কে অনেক বার দেখেছে কিন্তু রাসেদ কে নিপা ওর বলে যে ছবি দেখিয়েছিল আসলে ওটা ছিল ওর খালাতো বোনের ছবি। রাসেদ নিপাকে বহুদিন দেখেছে, দেখবেই তো ওরা যে পাশের ফ্লাটেরই দুজন। আসলে নিপা যে সাদিয়া , তা আর রাসেদ জানতো না । দেখতে দেখতে আনেক দিন চলে গেল ওরা একে অপরেকে অনেক কাছে পেতে চাইলো । রাসেদ যতোদিন বলেছে যে নিপা আমি তোমাকে কাছে পেতে চাই এক নজর দেখতে চাই, নিপা শুধুই বলছে সময় আসুক সময় এই বলে দিবে আমরা কখন কোথায় দেখা করবো।

আর এদিকে নিপা নামে সাদিয়া রাসেদ কে প্রেম নিবেদন করছে বহুবার রাসেদের কয়েকবার প্রত্যখান করাও শেষ। কিন্তু সাদিয়া রাসেদ কে তার প্রমের জালে আবদ্ধ করতে বার বার প্রেম নিবেদন করছে। একদিন রাসেদ রাজি হয় সাদিয়ার কথায়। এবার রাসেদের দুই দুইটা প্রেমিকা । রাসেদ এখন ব্যস্ত সময় কাটায়। সকালে কথা বলে নিপার সাথে আর রাতে কথা বলে সাদিয়ার সাথে । সাদিয়া ও রাসেদের চেয়ে কোন অংশে কম চালাক না । সকালে যখন নিপা হয়ে কথা বলে তখন কন্ঠস্বর একটু ভিন্নভাবে কথা বলে।

একদিন রাসেদ বলে, জানো সাদিয়া তোমার কন্ঠস্বরটা না আমার এক মামাতো বোনের মতো, তখন সাদিয়া একটু মিষ্টি হাসি দিয়ে বলে হতেও পারে, মোবাইলে অনেকের কন্ঠই প্রায় এক রকম শুনা যায়। রাসেদ সাদিয়ার সাথে প্রায়ই কথা বলে ওদের বাসায় যায়। কিন্তু রাসেদের মন শুধু সারাক্ষন নিপা নিপা বলতে থাকে। সকালে যখন নিপাকে রাসেদ কল করে , রাসেদ শুধুই বলে নিপা আমি তোমার সাথে দেখা করতে চাই।

নিপা বলে , কি করবে আমাদের দেখা হলে , রাসেদ বলে তুমি যা চাইবে তাই করবো, তোমাকে নিয়ে হারিয়ে যাবো অজানা কোন এক দেশে সেখানে একটি ছোট্ট ঘরে থাকবো শুধুই আমরা দুজন। তোমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবো সমুদ্র সৈকতে । যখন তুমি আমার কাছে আসবে তখন তোমায় আমি বলবো আমার মনের সব না বলা কথা।

নিপা বলে , ঠিক আছে , আজ রাত দশটায় আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো নিরিবিলি রেস্তোরায় । কোথায় এই রেস্তোরা কেন তুমি চিনোনা? হ্যা আমি যে নিরিবিলি রেস্তোরা চিনি ওটা তো হচ্ছে মোহাম্মদপুরের টা তুমি কি ওটার কথা বলছো? নিপা বলে হ্যা , আমি ওখানেই থাকবো। আর শুনো শুধু তুমি একা আসবে সাথে যেন তোমার কোন বন্ধু না থাকে। ঠিক আসে আমি একাই আসবো এই বলে ফোনটা রাখে রাসেদ।

রাসেদ আজ অনেক খুশি প্রায় এক বছর যাবৎ কথা হচ্ছে নিপার সাথে আজ যাচ্ছে দেখা করতে। সন্ধা নেমে এল , রাসেদের মনে শুধুই নিপাকে দেখার ইচ্ছা , রাসেদ সাদিয়া কে একটা কল করে বলে দেয় আজ আমি রাতে কল করতে পারবো না আমি আজ আব্বুর সাথে এক কাজে খুলনা যাচ্ছি ফিরবো কাল সন্ধায় । সাদিয়া বলে ঠিক আছে । সাদিয়ার আব্বু আম্মু আজ কেউ বাসায় নেই, তাই নিপার সাজে সাদিয়া আজ দেখা করবে রাসেদের সাথে। রাসেদ আটটার দিকে বাসা থেকে বের হয় ওর কোন এক ব্ন্ধুর কম্পিউটার ঠিক করতে হবে এই বলে।

রাসেদ ঠিক দশটায় পৌছে যায় নিরিবিলি নামক রেস্তোরায়। আর নিপা পৌছাই দশটার কিছু আগে । রাসেদ দেখে রেস্তোরার এক কর্ণনারে একটি মেয়ে বসে আসে পিছন দিক থেকে। রাসেদ পিছন দিক থেকে গিয়ে নিপার মজা করার জন্য ওর দুচোখ ধরে আর সামনে রাখে এক মুঠো গোলাপ। রাসেদের হাতটা যখন নিপা সরিয়ে মুখ রাসেদের দিকে তাকায় রাসেদ তখন দেখে এই তো ওর আরেক প্রেমিকা সাদিয়া দেখে যেন রাসেদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। রাসেদ লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে নেয়। তখন সাদিয়া রাসেদকে বুঝায় আর বলে আমিই তোমার সাদিয়া আর আমিই তোমার নিপা । তো এবার চলো কিছু খেয়ে তারপর শুনবো তোমার মনের না বলা কথা ।

ঠিক আছে চলো , রাসেদ আর নিপা চললো আজানা কোন এক পথে , আজ আর কেউ ওদের থামিয়ে রাখবে না , আজ আর কেউ ওদের পিছু ডাকবেনা , ওরা দুজন চলছে… হারিয়ে যাচ্ছে ….

Advertisements
One Comment leave one →
  1. shagor permalink
    ফেব্রুয়ারি 27, 2010 3:38 অপরাহ্ন

    khubi valo hoise.

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: