Skip to content

একটি কাল্পনিক Love Story (৩য় পর্ব)

নভেম্বর 21, 2008
সেদিন ইভাকে দেখার পর থেকে আবিরের মনে শুধু ইভা আর ইভা।
সারাক্ষন শুধু ইভার প্রতিচ্ছবিই ভাসছে আবিরের চোখে মুখে।
ইভার চোখে চোখ পরার পর ইভার হাসি এখনো যেন দেখতে পায় আবির।

ইভাকে ভর্তি করা হলো আবির যে কলেজে পড়ে সেই কলেজেই এবং পাশাপাশি ইভা ক্লাস করছে একটি ভাষা শিক্ষাল কোর্সে।

নাঈম আর ইভাদের বাসা প্রায় কাছাকাছি, আবির সময় পেলেই নাঈমদের বাসার নিচে গিয়ে আড্ডা দেয় । যদি এক বারের জন্য দেখতে পায় ইভাকে সেই লক্ষে। ইভা ছোট বোন  ঈশা কে নিয়ে নিচে গল্পও করে আবির ও নাঈম।

জানতে চাই বিভিন্ন কথা ইভা সম্পর্কে, আর ছোট মেয়ে ঈশা সত্যি সত্যি সব বলে দেয়।


একদিন আবির আর নাঈম ক্লাস শেষে বের হচ্ছিল…

ইভা প্রতিদিন কলেজের অন্য গেইট দিয়ে বের হয়। আজ হঠাৎ আবিররা যে গেইট দিয়ে বের হয় সেই গেইটের সামনেই দেখতে পেল ইভাকে প্রথমে দেখতে পায় আবির নিজেই, নাঈম কে বলে দেখতো নাঈম ও ইভা না?
নাঈম :   হ্যা ইভাই তো।একটু অপেক্ষা কর, বের হয় পরে কথা বলতে বলতে বাসায় যাওয়া যাবে।
নাঈম : Hi ইভা কেমন আছো? আজ হঠাৎ এই গেইট দিয়ে বের হচ্ছো ব্যপার কি ?
ইভা : হা ভাল আছি আপনারা কেমন আছেন? না এমনি, কেন এই গেইট দিয়ে বের হওয়া কি আমার জন্য নিষেধ নাকি?
নাঈম : আরে না কি যে বলো না , মজা করলাম একটু নিষেধ হবে কেন, তুমি এই গেইট দিয়ে বের হলে আমার পাগল বন্ধুর জন্য একটু ভাল হয়, তোমার ওই মায়াবী মুখটা আমার বন্ধু একবারের জন্য হলেও দেখতে পারে। 
আবির : নাঈম , শালা এতো বেশী কথা বলিছ কেন। আমি কি বলেছি যে আমি ইভাকে দেখতে চাই। ইভা তুমি কিছু মনে করো না প্লিজ।
ইভা : না না মাইন্ড করার কি আছে।
আবির :
তারপর কেমন চলছে ক্লাস? ভাষা শিখা কতোদুর হলো ভাষা শিক্ষার ক্লাসে যাচ্ছো কি ঠিক মতো।
ইভা : হ্যা ,ক্লাসে যাচ্ছি ঠিক মতোই তবে অনেক কিছুই বঝিনা।
নাঈম : ক্লাস করতে থাকো , আস্তে আস্তেই সব বুঝবে। আর কিছু না বুঝলে আবির কে বলতে পারো ও তোমাকে সব বুঝিয়ে দিবে । তুমি কি জানো ওর জন্ম যে ইতালীতে?
ইভা : তাই নাকি আগে তো কখনো বলেননি যে আপনার এই বন্ধুর জন্ম ইতালিতে, ইতালিতে জন্ম তার পরেও এতো ভাল বাংলা বলেন কি করে আপনি?
আবির : কে বললো আমি ভাল বাংলা বলতে পারি ? আমাকে বাংলা বলা তো এই নাঈমেই শিখিয়েছে ।

আবির কথা বলছে আর ফাকে ফাকে তাকায় ইভার দিখে চোখ চোখ পরলেই মুচকি হাসে ইভা সাথে আবির ও, আর ইভা একটু পর পরই কপালের উপর থেকে চুল গুলো সরিয়ে নেই, অবির কথা বলার সাথে সাথে দেখে নেয় ইভার চলার ভঙ্গি ও কথা বলার স্টাইল। 
আবির কে বার বারেই মুগ্ধ করে ইভা ওর চাহনি ওর হাসি আর ও ব্যবহার দিয়ে।
 
নাঈম :
ইভা আমি এখন থেকে আর আবির কে বাংলা শিখাবো না , এখন থেকে তুমি আবির কে বাংলা শিখাবে আর আবির তোমাকে ইতালীয়ান শিখাবে।
আবির ও ইভা : হা হা হা .
ইভা : কি শিখাবেন আমাকে ইতালীয়ান?
আবির : যদি আমাকে বাংলা শিখান তবে শিখাবো।
নাঈম : অনেক কথা হলো অনেক হাসাহাসি হলো চল বারে চল কিছু খেয়ে নেই, চলো ইভা তুমি ও চলো আমাদের সাথে।
ইভা : না না আমি কিছু খাবো না ।
আবির : আরে চলতো ।

বারে বসে ওদের মাঝে যে কথা হচ্ছিল :

নাঈম : আচ্ছা আমি একটা ব্যপার খেয়াল করেছি ইভা আবির এবং আমাকে আপনি আপনি করে বলছে । এটা আমার কাছে মোটেও ভাল লাগেনা । আজ থেকে আমরা একে অপর কে তুই বা তুমি করে বলবো। ঠিক আছে ?
ইভা : ঠিক আছে বলবো ।
আবির : যদি কিছু মনে না করো তবে আমাদের মোবাইল নাম্বার টা নিয়ে যেতে পারো এবং ইচ্ছে হলে তোমার নাম্বর ও দিয়ে যেতে পারে।
ইভা : আমার মোবাইল নাম্বার হচ্ছে : 388……………..
নাঈম : ঠিক আছে আজ তা হলে ওঠা যাক , অনেক আড্ডা হয়েছে ।
আমি আগেই বলে রাখি ইভা আমি কল করতে পারবো না আবিরেই তোমাকে কল করবে ।
আবির : আচ্ছা ঠিক আছে আমিই কল করবো । তারপর তুই কথা বলিছ। ওকে বাই বাই ।

 


বিকেলে ইভা বাসায় একা একা বসে টিভি দেখছিল হাঠাৎ মোবাইল টা বেজে উঠলো,ইভা মোবাইলটা হাতে নিয়েই দেখে প্রাইভেট নাম্বারের কল ।

ইভা : হ্যালো , আসলামুআলাইকুম, কে বলছেন প্লিজ।
আবির : ওয়ালাইকুমুস সালাম,  আপনি আমাকে চিনবেন না ম্যডাম।
ইভা : কি ব্যাপার আপনি আমাকে ম্যডাম বলছেন কেন? কে আপনি নাম বলুন প্লিজ, নয়তো বা আমি ফোনটা রাখবো, আমি অপরিচিত কারো সাথে কথা বলিনা।
আবির : (হাসতে হাসতে) এইতো ভদ্র মেয়ে অপরিচিত কারো সাথে কথা না বলাই ভাল। আপনার বাসার সবাই কেমন আছে, আপনার ছোট বোন ঈশা কেমন আছে? 
ইভা : আজব ব্যপার তো , আপনি আমার সবকিছু জানেন, বাট আমি কিন্তু আপনাকে চিনতে পারছিনা, আমি সিওর আপনি আমার পরিচিত কেউ। বলবেন কি আপনি কে?
আবির: আমি আবির, এখন চিনতে পারছো তো নাকি? 
ইভা : হ্যা , চিনতে পেরেছি, এমন কাছের মানুষকে কি না চিনে পারে, তারপর কেমন আছো বলো ?
আবির : আমি আগে জানতে চেয়েছি যে তুমি কেমন আছো। আগে তুমি বলো পরে আমি বলছি।
ইভা : আমি ভাল আছি, আর এখন অনেক ভাল লাগছে তোমার সাথে কথা বলতে পেরে।
আবির : তাই নাকি ? আমার ও অনেক ভাল লাগছে তোমার সাথে কথা বলতে পেরে। কি করছিলে বাসার বসে বসে। তুমি বাহিরে বের হও না কেন।
ইভা : এমনি মন চায় না বের হতে , আর বাসায় বসে বসে টিভি দেখছি আর আপেল খাচ্ছি। খাবে নাকি আপেল ?
আবির : আমি তেমন আপেল খাই না , তারপরেও যদি তোমার দেওয়া আপেল হয় তবে খেতে পারি।
ইভা : আবিরের কথা শুনে ইভা শুধু শুধুই হাসতেছিল, আমি কিন্তু এখনো তোমার সাথে কথা বলছি আর আপেল খাচ্ছি। তুমি কথা বলতে থাকো আমি আপেল টা শেষ করি।
আবির : (হাসতে হাসতে) বেশি খেওনা কিন্তু , মোটা হয়ে যাবে, আর মোটা হলে তোমাকে একটু ভাল লাগবেনা ।
ইভা :  হা হা হা , আমি মোটা হলে তোমার সমস্যা কি ?
আবির : আছে সমস্যা আছে , আমার মনের মানুষ বেশী মোটা হবে এটা আমি চায় না ।
ইভা : কি , কি বললে ? আমি তোমার মনের মানুষ?
আবির : হ্যা তুমিই আমার মনের মানুষ, তোমাকে দেখার পর তোমার সাথে কথা বলার পর আমার মনে আমি তোমাকে স্থান দিয়েছি । আমি দিন দিন তোমার প্রতি অনেক দুর্বল হয়ে যাচ্ছি। আমি তোমাকে অনেক ভালবেসে ফেলছি। আমি ছোট বেলা থেকে ইতালীতে বড় হয়েছি এই প্রথম কোন বাঙ্গালী মেয়ে কে আমার ভাল লেগেছে। আমি আমার মনে কথা গুলো বলার জন্যই আজ কল করেছি । আমার কেন জানি ভয় হচ্ছে তুমি কি আমার হবেনা ? তুমি কি আমাকে ভালবাসবে না? তুমি কি ফিরিয়ে দিবে আমার ভালবাসা কে?

এমন কয়েটা প্রশ্ন ছুড়ে দেয়ে আবির চুপ করে থাকে। 
ইভা ও শুনছিলো মন দিয়ে আবিরের আবেগাপ্লুত কথা গুলো।


ইভা : শোন আবির, আমি যে কথা এতো দিন কাউকে বলিনি আজ তোমাকে বলি, ইতালীতে আসার পর তোমার ব্যবহার কথা বর্তা তোমার সব দিক আমাকে মুগ্ধ করেছে , প্রথম থেকেই তোমাকে কেন যাদি আমার ভাল লেগেছে, তবে এই কথা আমি শুধুই আমার মনে রেখেছি, কা কেউ বলতে পরিনি আর তুমি বললে তোমার মনের কথা আবি বললাম আমার মনের কথা । আমি ও তোমাকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি আমার মনের অজান্তেই তোমাকে আমার মনে স্থান দিয়েছি , তুমি কি কখনোই বুঝতে পারোনি যে আমি তোমাকে ভালবাসি।

আবির : হা আমি ও মাঝে মাঝে বুঝতে পরতাম তবে বলতে অনেক ভয় হতো । আজ আমরা জানলাম দুজনের মনের কথা আর কোন ভয় থাকবে না কথা বলতে । জানো  ইভা আজ আমার জীবনের এক মহা আনন্দের দিন ।  আজ আমি আমার মনের মানুষ কে আমার ভালবাসার কথা বলতে পারলাম আর জানতে পরলাম যে তুমি ও আমাকে ভালবাসো।
ও তুমি কি জনো আগামী কাল পিয়াচ্ছাতে মেলা বসবে এক সপ্তাহের জন্য তুমি কিন্তু অবশ্যই মেলায় আসবে  আর এসেই আমাকে কল দিবে ঠিক আছে মনে থাকবেতো?
ইভা : হ্যা , আসবো আর এসে তোমাকে কল দিবো ।


পরের দিন বিকেলে…

আবির নাঈম ও ওদের সব বন্ধুরা মেলায় এলো, আবির ওদের সাথে ঘুরছে ঠিকই কিন্তু মনটা শুধুই বলছে কখন আসবে ইভা।

কিছুক্ষন পরেই ইভার কল এলো , জানতে পরলো ইভা মেলায় এসেছে । অন্য বন্ধুদের ফাকি দিয়ে আবির আর নাঈম চললো ইভার সাথে দেখা করতে।

পিয়াচ্ছা পশেই ছোট্ট একটি পার্ক সেখানেই আছে ইভা আর ইভার ছোট বোন ঈশা আর ইভার বন্ধবী শামীমা।


আবির ফুলের দোকান থেকে কিছু গোলাপ কিনে নিল। তারপর চললো পার্কের দিকে দুর থেকেই দেখে ইভারা দাড়িয়ে আছে , আবির আর নাঈম কাছে গেল , আজ আবিরের অনেক লজ্জা হচ্ছে ইভার সাথে কথা বলতে , ইভার হাতে গোলাপ গুলো তুলে দিয়ে কিছুই বললে পরলো না আবির।
ইভার পালগ করা চাহনি আর মিষ্টি হাসি নিয়েই ফেরে আসতে হলে আবিরকে।

কিছু দুর আসার পর আবির কল করলো ইভা কে, ইভা বললো কেমন হলো ব্যাপারটা ফুল গুলো হাতে দিয়ে চলে গেলো কিছুই বললে না , তুমি তো দিয়ে গেলে ফুল আমি তো তোমাকে কিছুই দিতে পারলাম না ।
ঠিক আছে কাল মেলায় এসে দেখি আমি তোমাকে কিছু দিতে পারি কি না ।

আবির : তবে ইভা আজ তোমাকে অনেক সুন্দুর  লাগছিল , কাল মেলায় আসবো কাল তোমার সাথে কথা হবে।


পরের দিন …
ইভা মেলায় এলে আবির কে কল করে বলে আমি পার্কে আছি তবে আজ আমি একা সাথে শামীমা বা অন্য কেউ নেই।  (চলবে…..)
 

 

Advertisements
No comments yet

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: