Skip to content

সূর্যগ্রহন কেন হয়?

জুলাই 21, 2009

আমরা অনেকেই জেনেছি ২২ জুলাই সকালের দিকে বাংলাদেশ থেকে সূর্যগ্রহন দেখা যাবে। বাংলাদেশ থেকে আবার সূর্যগ্রহন দেখা যাবে প্রায় শতাব্দীপর। তাই বাংলাদেশের সূর্যগ্রহন দেখতে উৎসাহী মানুষের ভীড় জমেছে পঞ্চগড়ে।
বাংলাদেশ মান সময় সকাল ০৬ টা ৫৮ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে গ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর ১২টা ১২ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে শেষ হবে। পূর্ণগ্রাস গ্রহণের স্থায়িত্ব হবে ৩ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড। শুধু দিনাজপুর ও লালমনিরহাট জেলা দুটির উত্তরাংশে এবং পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলা দুটিতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। তবে পঞ্চগড় থেকে এ সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে।

এবার আসুন জেনে নেই কেন সূর্যগ্রহন হয়…

ছায়া কেন তৈরি হয় তা আমরা সবাই জানি। আলো সরল পথে চলার সময় অস্বচ্ছ কোনও পদার্থে বাধা পেলে আলোর উৎসের উল্টো দিকে ওই পদার্থের আকারে ছায়া তৈরি হয়।

আলোক উৎস একবিন্দু না হলে ছায়ার দুটি অংশ তৈরি হয়Ñ প্রচ্ছায়া (Umbra) ও উপচ্ছায়া (Penumbra) অঞ্চল। এই প্রচ্ছায়া ও উপচ্ছায়ার দৈর্ঘ্য নির্ভর করে উৎস থেকে অস্বচ্ছ পদার্থের দূরত্ব এবং যার ওপর ছায়া পড়বে তার অবস্থানের ওপর।

বাড়িতে টিউবলাইটি জ্বালিয়ে মেঝের খুব কাছে হাত রেখে হাতটাকে আস্তে আস্তে ওপরের দিকে উঠালে ব্যাপারটা খুব সহজেই বোঝা যাবে।

সূর্যের ব্যাস চাঁদের ব্যাসের প্রায় চারশ’ গুণ এবং সূর্যের দূরত্বও পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্বের প্রায় চারশ’ গুণ। ফলে পৃথিবী থেকে চাঁদকে প্রায় সূর্যের সমানই দেখায়। কৌণিক ব্যাস আধা ডিগ্রি। কিন্তু পৃথিবীর সূর্য প্রদক্ষিণ পথ এবং চাঁদের পৃথিবী প্রদক্ষিণ পথ ডিম্বাকৃতি হওয়ায় পৃথিবী থেকে সূর্য ও চাঁদের দূরত্ব সব সময় এক থাকে না। ফলে পৃথিবী থেকে এদের আকারও তুলনামূলকভাবে সামান্য ছোট বড় দেখায়।

পৃথিবী একটি উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। চাঁদ আবার একইভাবে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীকে। সূর্য মহাকাশে একটি বিস্তৃত আলোক উৎস। পৃথিবী ও চাঁদ আলোকহীন অস্বচ্ছ পদার্থ। ফলে এদের যে পাশে সূর্য থাকে তার বিপরীত পাশে ছায়ার সৃষ্টি হয়। কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে সরলরেখায় এলে পৃথিবী ও চাঁদের একের ছায়া অন্যটির উপর পড়ে।

পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়লে চন্দ্রগ্রহণের সৃষ্টি হয়। আর চাঁদের ছায়া পৃথিবীতে পড়লে ঐ ছায়ার অন্তর্গত স্থানে সূর্যগ্রহণের সৃষ্টি হয়। গ্রহণ হতে হলে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদকে একই সরলরেখায় আসতে হয়।

চাঁদের কক্ষপথ এবং পৃথিবীর কক্ষপথ দুটি যদি একই তলে থাকতো তাহলে সাধারণ হিসেবে প্রতি পূর্ণিমাতে চন্দ্রগ্রহণ এবং প্রতি অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ হওয়ার কথা। সূর্য ও পৃথিবী উভয়ে একই তল, পৃথিবীর কক্ষতল বা ক্রান্তিবৃত্তের তলে অবস্থিত।

কিন্তু চাঁদের কক্ষতল এই তলের সঙ্গে ৫ ডিগ্রী কোণে হেলে থাকে। কাজেই চাঁদের কক্ষতলের অর্ধেক পৃথিবীর কক্ষতলের ওপরে এবং বাকি অর্ধেক পৃথিবীর কক্ষতলের নিচে থাকে। আপন কক্ষপথে পৃথিবী প্রদক্ষিণকালে যে দুই দিন চাঁদ দুই পাতাবিন্দুতে (চাঁদের কক্ষপথ যে দুটি বিন্দুতে ক্রান্তিবৃত্তকে ছেদ করে) পৃথিবীর কক্ষতল ভেদ করে, মাত্র সেই দুটি দিনই চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই তলে অবস্থান করে। কিন্তু, গ্রহণ হতে গেলে এই তিনটিকে একই সমতলে থাকার পাশাপাশি এক সরলরেখাতেও আসতে হবে। চাঁদ এই দুই পাতবিন্দুর কোনো একটিতে বা তার কাছে থাকা অবস্থায় যদি অমাবস্যা বা পূর্ণিমা হয় কেবলমাত্র তখনই সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় এসে গ্রহণ ঘটায়।

যে কোনও বছরে সূর্যগ্রহণের সংখ্যা চন্দ্রগ্রহণের সংখ্যার থেকে বেশি। কোনও বছরে গ্রহণের সর্বনিু সংখ্যা দুই, এবং সে দুটিই হচ্ছে সূর্যগ্রহণ। আর সর্বাধিক গ্রহণ হচ্ছে সাত, যার পাঁচটি সূর্যগ্রহণ ও দুটি চন্দ্রগ্রহণ অথবা চারটি সূর্যগ্রহণ ও তিনটি চন্দ্রগ্রহণ। ১৯৩৫ সালে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ এবং দুইটি চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল এবং ১৯৮২ সালে হয়েছিল চারটি সূর্যগ্রহণ ও তিনটি চন্দ্রগ্রহণ।

সূর্যগ্রহণ আবার তিন রকম হতে পারে। আংশিক বা খণ্ডগ্রাস, বলয়গ্রাস এবং পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হতে হলে চাঁদের আপাত ব্যাস সূর্যের সমান বা বেশি হতে হবে। সূর্য বেশিদূরে থাকলে এবং চাঁদ বেশি কাছে থাকলে বেশি সময় ধরে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ অনুকূল পরিবেশে সবচেয়ে বেশি স্থায়ী হতে পারে ৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড পর্যন্ত। আগামী ২১৬৮ সালের ৫ জুলাইয়ের পূূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে দীর্ঘস্থায়ী সূর্যগ্রহণ। এর স্থায়িত্বকাল হবে তত্ত্বগতভাবে প্রাপ্ত সর্বাধিক স্থায়িত্বকাল থেকে মাত্র তিন সেকেন্ড কম (৭ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড)।

যদি সূর্য কাছে এবং চাঁদ দূরে অবস্থান করে তাহলে এই পরিস্থিতিতে চাঁদের ছায়া পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না, অর্থাৎ ছোট চাঁদ বড় সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না। তখন বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়। সূর্যকে বালার (জরহম) মতো দেখায়।

গ্রহণের বিভিন্ন পর্র্যায়

সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে এবং গ্রহণ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেতে হলে গ্রহণকালীন কোন সময়ে কী ঘটে, তা জেনে রাখা দরকার। সূর্যগ্রহণের সময়কে মোট চারটি ভাগে বা চারটি স্পর্শে বলতে চাঁদ দ্বারা সূর্য ঢেকে যাওয়া) ভাগ করা হয়। উত্তর গোলার্ধে যখন চাঁদের পূর্বপ্রান্ত দিয়ে সূর্যের পশ্চিমপ্রান্ত ঢাকা পড়তে শুরু করে, সেই মুহূর্ত থেকেই প্রথম স্পর্শের শুরু। অর্থাৎ প্রথম স্পর্শ থেকেই গ্রহণের শুরু। এরপর চাঁদের দেহ সূর্যের পূর্বপ্রান্তে স্পর্শ করবে ততক্ষণ পর্যন্তই গ্রহণের প্রথম স্পর্শ। আমরা সহজেই বুঝতে পারছি, প্রথম স্পর্শের পুরোটাই হবে আংশিক গ্রহণ।

চাঁদের পূর্বপ্রান্ত সূর্যের পূর্বপ্রান্ত স্পর্শ করলে সেটা হবে দ্বিতীয় স্পর্শ। দ্বিতীয় স্পর্শের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের শুরু। অর্থাৎ চাঁদের দেহ দিয়ে সূর্য সম্পূর্ণরূপে ঢাকা পড়বে।

চাঁদের পূর্বপ্রান্ত আরও এগিয়ে গেলে যখন চাঁদের পশ্চিমপ্রান্ত সূর্যের পশ্চিমপ্রান্ত স্পর্শ করে তখন তৃতীয় স্পর্শ। তৃতীয় স্পর্শে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ শেষ হবে। ২২ জুলাইয়ের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের স্থায়িত্ব হবে ৩ মিনিট ৫৮.৫ সেকেন্ড। অর্থাৎ এই সময়টা হচ্ছে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্পর্শে মধ্যবর্তী সময়।

তৃতীয় স্পর্শের পর থেকে সূর্যের পশ্চিমপ্রান্ত ধীরে ধীরে দেখা দিতে শুরু করবে। চাঁদের পশ্চিমপ্রান্ত এবং সূর্যের পূর্বপ্রান্ত পরস্পর থেকে মুক্ত হলে হয় চতুর্থ স্পর্শ। অর্থাৎ স্পর্শে গ্রহণ শেষ। তৃতীয় স্পর্শ থেকে চতুর্থ স্পর্শ পর্যন্ত আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।

বি দ্র : আরো কিছু জানতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন bdnewa4.com

Advertisements
One Comment leave one →
  1. আব্দুল্লাহ permalink
    ফেব্রুয়ারি 25, 2013 9:55 পুর্বাহ্ন

    ভালা অইছে ভাই..!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: